Loading...

Blog Head Ads

"ব্ল্যাকহোল" রহস্যময় ব্ল্যাকহোলের আসল ছবি দেখলো মানবজাতি | The First Ever Image of "Black Hole" | Bangla Post

ব্ল্যাকহোল animated black hole image


ব্ল্যাকহোল শব্দটি দ্বারা আমরা অনেকেই অনেক আগে থেকে পরিচিত আর মহাকাশে এই ব্ল্যাকহোল নামের যায়গাটি এমন একটি জায়গা যেখানে খুবই অল্প জায়গায় অনেক অনেক ভর ঘনীভূত হয়ে রয়েছে আর এর ঘণীভূত হওয়ার পরিমাণ এতই বেশী যে, কোন কিছুই এর কাছ থেকে রক্ষা পায় না, এমনকি সর্বোচ্চ গতি সম্পন্ন আলো বা আলোকতরঙ্গ-ও নয়! 



বাংলা ভাষায় ব্ল্যাকহোল-কে কৃষ্ণবিবর, কৃষ্ণগহ্বর ইত্যাদিও বলা হয়েথাকে। 



বিজ্ঞানিদের মতে মহাকাশের এক অনন্ত বিস্ময় এই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোলের ধারণা নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা ধোঁয়াশা কাজ করে, তবে অজানা সবকিছু জানার আগ্রহ থাকতে হবে এবং জানতে হবে। এই জানা-অজানার আগ্রহ নিয়েই আমাদের আজকের বিষয় “ব্ল্যাকহোল”? 



ব্ল্যাকহোল? 
অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে ব্ল্যাকহোল বা কোন মহাকাশ দানবের অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয় পরে পদার্থবিজ্ঞানী জন হুইলার এর নাম দেন “ব্ল্যাক হোল”। 

যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায় সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। আর এই ঘটনা তখনই ঘটে যখন একটি তারকার জীবনকাল অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট জ্বালানি শেষ হয়ে যায় আর তার পরই তারকাটি পরিণত হয় ব্ল্যাকহোলে। 

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র মতে, কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনের তবে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই এর ভেতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ যেমন- আলো বা আলোকতরঙ্গ কেও নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে, ফলে এ থেকে কোন কিছুই পালাতে পারে না। 

ব্ল্যাকহোলের আসল ছবি, real black hole image

ব্ল্যাকহোলের আসল ছবি! 
আজ পর্যন্ত এই কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোলের যত ছবি দেখানো হয়েছে তার সবই অ্যানিমেটেড কিংবা শিল্পীর কল্পনা দিয়ে বানানো, কিন্তু ১০ এপ্রিল, ২০১৯ বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞানীরা ৬টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন যেটাতে সত্যিকারের ব্ল্যাকহোলের ছবি দেখানো হয় আর এই ছবিটি তোলাহয় ইভেন্ট হরাইজোন টেলিস্কোপ বা ইএইচটি এর মাধ্যমে। 

এই ব্ল্যাকহোল ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিমি. দূরে এবং বিশ্বব্যাপী আটটি টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কের সমম্বয়ে দীর্ঘদিনের কার্যপরিচালনার মাধ্যমে এর ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানিদের ধারণা মতে সূর্য অপেক্ষা এর ভর ৬.৫ বিলিয়ন গুণ বেশি আর বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটিই সবচেয়ে ভারী ব্ল্যাকহোল। 

মানব ইতিহাসে এই প্রথমবারই বিজ্ঞানিদের কাছে ধরা পড়লো ব্ল্যাকহোল আর বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করা হলো রহস্যময় ও দানবীয় ব্ল্যাকহোলের ছবি। 

বিজ্ঞানিরা ইভেন্ট হরাইজোন টেলিস্কোপ দ্বারা এই ব্ল্যাকহোলের ছবিটি দূরবর্তী একটি গ্যালাক্সি থেকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এই দূরবর্তী ব্ল্যাকহোলের নাম দিয়েছেন মনস্টার বা দানব। 

ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা বা মতামত থাকলে তা অবশ্যই আমাদের জানাবেন এবং পোষ্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

No comments:

Powered by Blogger.