Loading...

Blog Head Ads

রহস্যময় কালো জাদুর বই নেক্রোনমিকন | Mysterious Black Magic Book Necronomicon

কালো জাদুর বই নেক্রোনমিকন, Black-Magic-Book-Necronomicon

আমরা আজকে এমন একটি বইয়ের রহস্য নিয়ে এসেছি যে বইয়ে লেখা হয়েছিল অসম্ভব শক্তিশালী কিছু কালো জাদুবিদ্যার মন্ত্র, যে মন্ত্র পাঠ করার সাথে সাথে শয়তান জাগ্রত হত। ধারণা করা হয় এই বইটি হাজার বছর আগে এই পৃথিবীতে লেখা হয়েছিল যাতে ছিল সমস্ত শয়তানি দুনিয়ার কালো জাদুর মন্ত্র আর সেই রহস্যময় বইটিকে নিয়েও রয়েছে অনেক রহস্যময় ধারণা কারণ বহু আলোচিত সেই বইটি এখন কোথায় আছে আর স্পষ্ট ভাবে সত্যিই কি ছিল তাতে লেখা তা কেউই আজ বলতে পারে না কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে বইটি ঠিক কোথাও না কোথাও এখনো রয়েছে। 


বিংশ শতকের গোড়ার দিকে খ্যাতনামা মার্কিন লেখক এইচ পি লাভক্র্যাফ্ট (H. P. Lovecraft) এই বইটকে নিয়ে মুখ খুললেন। তার অসংখ্য গল্পে তিনি এই গ্রন্থের কথা লিখতে শুরু করেন। গ্রন্থটির নাম নেক্রোনমিকন (Necronomicon) যতদূর জানা যায় এই গ্রন্থটি আসলে আরবি ভাষায় লিখিত পরে এটি গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করে ইউরোপের রহস্যবাদী কাল্টগুলোরের হাতে পৌঁছায়।



মনে করা হয় নেক্রোনমিকনের লেখক আবু আলী আল হাসান নামের আরব জনৈক কিন্তু তাকে দামাস্কের আরব আব্দুল বলেও ডাকা হতো আর ইউরোপে তিনি দ্য ম্যাড অ্যারাব নামেই পরিচিত ছিলেন। তার আসল পরিচয় আজও জানে না কেউ। 

ধারণা করা হয় ৮২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আব্দুল জীবিত ছিলেন। সে ইরাম নামের কোনএক গুপ্ত শহরে ১০ বছর থেকে সেখান থেকে গুপ্তবিদ্যা শিক্ষা করেন। তারপরে আজিজ ছদ্মনামে এই বইটি লেখেন তবে কি রয়েছে এই বইটিতে তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। 

এইচ পি লাভক্র্যাফ্ট (H. P. Lovecraft) সহ অসংখ্য সাহিত্যিক মনে করেন এই বই কালোজাদুর এক খনি, এতে পিশাচ জাগরণের পদ্ধতি থেকে শুরু করে মৃতকে জীবিত করার উপায় পর্যন্ত বর্ণিত আছে আর যে ব্যক্তি এই বইটি পড়ে ফেলতে পারবেন মহাজগতের সব শয়তানি রহস্য চলে আসবে তার হাতের মুঠোয়। 

মধ্যযুগের ইউরোপে যখন ডাকিনীবিদ্যা চর্চা তুঙ্গে তখন নেক্রোনমিকন নিয়ে পাগলামি বিপুলভাবে দেখা যায়। অসংখ্য মানুষ সন্ধান করতে থাকে বইটি আর তাল বুঝে বই নকলবাজেরা নেক্রোনমিকন নাম করে বেশ কিছু বই বাজারে ছাড়তে শুরু করে আর তখন অসংখ্য নকল বই দিয়ে ভরেযায় ইউরোপের গুপ্ত বইয়ের বাজার।

১৯২৭ সালে ল্যাভক্র্যাফ্ট নেক্রোনমিক কে নিয়ে একটি গল্প ইতিহাস লেখেন আর ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশিত হলে তুমুল হইচই পড়ে যায় এটানিয়ে তাই এরপর থেকে মাঝে মাঝেই এই বইয়ের কথিক খন্ডাংশ ও অন্যান্য আজগুবি কথা প্রকাশ হতে শুরু করে। গুজব ছড়ায় রাশিয়ার কুক্ষাত জাদুকর রাসপুটিন, নাৎসি নেতা হিমলার এমনকী স্বয়ং হিটলারও একটি করে কপি হস্তগত করেছিলেন তবে লাভক্র্যাফ্টের মতে কোনদিনই বইটিকে কেউ নিজ চোখে দেখেনি। 

অনেকেই মনে করেন এটি আসলে বই বিক্রয়ের একটি চাল ছিল যাতে তাদের বই গুলো বেশি বিক্রি হয় কিন্তু তারপরও আজও অসংখ্য মানুষ বিশ্বাস করে কোথাও না কোথাও নেক্রোনমিকন রয়েছে। 

আরো নতুন নতুন রহস্য ও অন্যান্য তথ্যাবলিতে ভরপুর খবর পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

No comments:

Powered by Blogger.