Loading...

Blog Head Ads

কেমন ছিল ১৬ কোটি বছর রাজত্ব করা ডাইনোসরের শেষ দিন | Last day of the Dinosaurs on Earth

ডাইনোসরের-শেষ-দিন, dinosaurs-last-day


আজকে আমরা যাবো আমাদের এই বর্তমান পৃথিবী থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বের পৃথিবীতে, যেই সময়ে পৃথিবীতে মানুষের কোন অস্তিত্ব ছিলনা তখন ছিল শুধুমাত্র ডাইনোসরের রাজত্ব আর আমরা জানবো সেই দিনের কথা যেইদিন ছিল ডাইনোসরের জন্য শেষ দিন যেদিন ডাইনোসররা এই পৃথিবীতে শেষ সূর্যোদয় দেখেছে। আজকের আমরা তা নিয়েই বিস্তারিত ভাবে জানবো তাদের সাথে কি এমন হয়েছিল যে প্রায় ১৬ কোটি বছর রাজত্ব করা ডাইনোসর এই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল।

ডাইনোসর এই পৃথিবীতে ছিল সেটা বিজ্ঞানীরা জানতেন কিন্তু এই পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার রহস্য লম্বা সময় পর্যন্ত মাটির নিচে গোপন ছিল, কে জানতো এটার পেছনে এত বড় একটি সত্য লুকিয়ে আছে যেই সত্য উদঘাটন করতে গিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসের একটি বড় ঘটনা মানুষের সামনে আসে যেটাকে শুধুমাত্র একটা নামেই ডাকা যেতে পারে “মহাপ্রলয়”। 

মহাপ্রলয়ে শুধুমাত্র ডাইনোসর এই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে তা শুধু নয়, পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল এই প্রলয়ে। 

কি হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীতে? 
সেইদিন পৃথিবীর জমিনে প্রায় এক লক্ষ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার গতিতে আসা একটি ১০ কিলোমিটার বড় গ্রহাণু (Asteroid) পৃথিবীতে আঘাত করে যেটা এতটা তেজ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল (Atmosphere)-এ প্রবেশ করার কারণে সেটাতে আগুন লেগে যায় এবং একটি বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয় আর তখন পৃথিবীতে এতোটা আলোর সৃষ্টি হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল হাজারটা সূর্য একসাথে পৃথিবীতে উদয় হয়েছে। 

পৃথিবীর যেখানে এই গ্রহাণুটি আঘাত করেছিল সেখানে একটি ১৮০ কিলোমিটার চওড়া এবং ২০ কিলোমিটার গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত নির্দেশ থেকে এটাই বোঝা যায় যে, ওই গ্রহাণুটি বর্তমানের মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উপদ্বীপে আছড়ে পড়েছিল আর এইটা এতটা ভয়ঙ্কর ছিল যে তার কল্পনাও আপনি করতে পারবেন না।

asteroid-hit-on-earth
আমেরিকা হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে যে পাবমাণবিক বোমা (Nuclear Bomb) ফেলেছিল এটা তার থেকেও হাজার কটি গুণ শক্তিশালি ছিল কিন্তু এটাতো শুধু মহাপ্রলয়ের সবেমাত্র শুরু কারণ গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাতের ফলে পৃথিবীতে সুনামির সৃষ্টি হয় আর সেই সুনামিতে এখনকার নর্থ আমেরিকা এবং সাউথ আফ্রিকা নামে বড়বড় দেশগুলোর অংশের বেশিরভাগ অংশই সুনামির দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়, যেটা হয়তো পৃথিবীর ইতিহাসের সব থেকে ভয়ংকর সুনামি ছিল আর এটা এতটা দ্রুতগতিতে আঘাত করার কারণে পৃথিবীতে বড় বড় ভূমিকম্প আসতে শুরু হয় আর গ্রহাণুটির আঘাতের ফলে প্রচুর পরিমাণে ধুলাবালি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল (Atmosphere) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে যার সংখ্যা বিলিয়ান বিলিয়ান টন হবে যেগুলো প্রায় ৪০ মিনিট পর আগুনের গোলায় পরিণত হয়ে বৃষ্টির মত এই পৃথিবীতে আচড়ে পড়তে থাকে আর একই সাথে ধুলার একটি বিশাল ঝড় ২০ হাজার কিলোমিটার গতিতে এই পৃথিবীতে মৃত্যুর রুপে নেমে আসে আর অনেক প্রাণি এই ধুলার নিচেই চাপা পড়ে মারা যায়।

যে সমস্ত ডাইনোসর হাটলে পৃথিবীর মাটি কাপতো সেইসমস্ত ডাইনোসর তখন মাটির নিচে চাপা পড়ে মরছিল।

আকাশ থেকে লাগাতার আগুনের বর্ষণের ফলে পৃথিবীতে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাই ইনফ্রারেড রেডিয়েশন এর সৃষ্টি হয় তারসাথে আগুনের বৃষ্টি আর ভয়ংকর ঝড় এই দিনে পৃথিবীতে নারকীয় তাণ্ডব চালায়।

ধুলার মেধ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে যা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত মোটা ছিল যার কারণে পৃথিবীতে কয়েক বছর পর্যন্ত সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারেনি। পৃথিবীতে সুর্যের আলো না পৌছাতে পারায় অনেক পশু পাখি এবং গাছপালা সূর্যের আলোর অভাবেও মারা গেছে আর ৭৫% এর-ও অধিক প্রাণি মহাপ্রলয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।

অনেক বছর পর পৃথিবীর ধুলোর মেঘ ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে আরেকটি নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি হয় যে পৃথিবীতে এক সময় ডাইনোসর রাজত্ব করত তারা এখন আর নেই, এখন সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক পৃথিবীর আর এই পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সব প্রাণী এবং গাছপালা। এইভাবে চলতে থাকে হাজারো বছর আর গ্রহাণুর সেই আঘাত পৃথিবীর ভাগ্যকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দেয়।

যদি ডাইনোসরের বিনাশ এই পৃথিবী থেকে না হতো তাহলে পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি কোনদিনও হতে পারত না কারণ ডাইনোসর যখন এই পৃথিবীতে ছিল তখন তারাই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালি আর পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে এবং তারা তাদের থেকে দূবল প্রাণীদের স্বীকার করেছে।

অবশ্যই আপনি ডাইনোসরের বিলুপ্ত হওয়ার সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন আর আপনার যদি এই পোষ্ট নিয়ে কোন মন্তব্য থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের জানাতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

No comments:

Powered by Blogger.